অ্যাডভান্স টেক্সটাইল

টেক্সটাইল বলতে আমরা কি বুঝি ? তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড় আর কাপড়কে রং করার পরে ডিজাইন এবং চাহিদা মত পরিধেয় পোশাক বানানো ? এর মধ্যেই কি টেক্সটাইল সীমাবদ্ধ ? না, টেক্সটাইল শুধু এই গণ্ডি এর মধ্যেই থেমে নেই। বরং একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে আধুনিকতার যুগে এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে টেক্সটাইল ছাড়া চিন্তা করা যায় না। তবে এসব টেক্সটাইল সাধারণ টেক্সটাইল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবার কারণে এসব কে বলা হয় “ আধুনিক টেক্সটাইল”। চলুন দেখে নেয়া যাক কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয় এই আধুনিক টেক্সটাইল:

 

মেডিক্যাল টেক্সটাইল :

মেডিক্যাল টেক্সটাইল মানে শুধু এটাই নয় যে মেডিক্যাল এর বিছানা পত্র, চাদর, পর্দা এসব  তৈরিতে ব্যাবহার করা টেক্সটাইলকে বুঝায়। বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন কারণে অনেক মানুষের ফুসফুস, কিডনি, চোখের কর্নিয়া, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের লিগামেন্ট নষ্ট হয়ে থাকে। অতীতে এসব অঙ্গের প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হত যদি না কোন বেক্তি এসব অঙ্গ দান করেন । কিন্ত আধুনিক টেক্সটাইল পৃথিবীকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে এই টেক্সটাইল দিয়েই আজ বানানো হচ্ছে এসব কৃত্রিম অঙ্গ। আর এসব কৃত্রিম অঙ্গ স্বাভাবিক অঙ্গের মতই কাজ করে।

 

জিও- টেক্সটাইলঃ 

প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবেই হোক, খেলা দেখার সময় আমরা আন্তর্জাতিক মাঠ গুলো তে যেই ঘাস গুলো দেখি তার কিছুই কিন্ত প্রাকৃতিক ঘাস নয়। এগুলোও টেক্সটাইল এর একটা ভাগ। শুধু তাই নয় উন্নত দেশের রাস্তাগুলো কেন এতো টেকসই হয় জানেন? কারণ রাস্তা তৈরির সময় ঢালাই এর নিচে ব্যাবহার করা হয় টেক্সটাইল এর একটা প্রলেপ। এই প্রলেপ এর প্রধান কাজ হল যানবাহন এর ওজন সহ্য করার মাধ্যমে মাটির সাথে রাস্তার একটা ভারসাম্য তৈরি করা। আর আধুনিক টেক্সটাইল এর এই ভাগ কে বলা হয় জিও-টেক্সটাইল।

 

রক্ষাকারী টেক্সটাইলঃ

কোথাও আগুন লাগলে আমরা ফায়ার সার্ভিস এ খবর দেই। তারা এসে আগুন নিভানোর পাশাপাশি আগুন লাগা স্থানের ভিতরে ছুটে যান সেখানে আটকে পরা মানুষ কে উদ্ধার করার জন্য। আমি-আপনি কিন্ত আগুন লাগা স্থানে প্রবেশ করতে পারি না। কিন্তু তারা কিভাবে প্রবেশ করেন? তাদের কি আগুনের আঁচ লাগেনা ? না লাগেনা, কারণ তাদের পরিহিত যেই পোশাক দেখছেন তা সাধারণ পোষাক নয়। তাদের পোষাক অধিক তাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। অধিক তাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখার জন্য এই পোষাক তৈরিতে  আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়। তাই টেক্সটাইল এর এই ভাগকে বলা হয় রক্ষাকারী টেক্সটাইল।

 

ই- টেক্সটাইলঃ

ইলেকট্রিক টেক্সটাইল এর সংক্ষিপ্ত নাম ই- টেক্সটাইল । তার মানে এই নয় যে এই টেক্সটাইল  তড়িৎ প্রবাহ এর কাজে ব্যাবহার করা হবে। তবে টেক্সটাইল এর সাথে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যাবহার করে  সেন্সর বানানোর মাধ্যমে এই  টেক্সটাইল তৈরি করা হয়ে থাকে। যেমন লিথিয়াম ব্যাটারি, কৃত্রিম প্রাণী ইত্যাদি।

 

রং পরিবর্তনশীল টেক্সটাইলঃ

বিশ্বে নামিদামি ফ্যাশন শো গুলো তে দেখবেন মডেলরা যখন মঞ্চে প্রবেশ করেন তখন তাদের পোষাক এর রং পরিবর্তন হতে থাকে। অনেকে হয়ত ভেবে থাকবেন মঞ্চের রঙ্গিন আলোর জন্য তাদের পোষাক গুলোর রং বিভিন্ন হয়ে থাকে। আসলে তা নয়। ঐ পোষাক গুলো এমন ভাবে তৈরি করা হয় যা মঞ্চের ঝমকালো আলোর সংস্পর্শে এসে পোষাক এর রং পরিবর্তন হয়ে থাকে। আর টেক্সটাইল এর এই ভাগকে বলা হয় রং পরিবর্তনশীল টেক্সটাইল।

 

মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন,
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার (বিএস,সি) - এ.ইউ.এস.টি